নিজেকে ফর্সা ও আকর্ষনীয় করে তোলার ফর্মুলা
নিজেকে আকর্ষণীয় করতে কার বা ইচ্ছে না হয়। আর তাই বিউটি কনসাল্টেন্টদের বিশেষ একটা প্রশ্ন প্রায়ই শুনতে হয় ”ফর্সা কিভাবে হব?”আবার এই একই টপিক নিয়ে ইন্টারনেট ঘাটলে পাবেন হাজার হাজার আর্টিক্যাল। মানুষের এই ফর্সা হওয়ার বাসনাকে পুঁজি করে কতজন ব্যবসা করছে তার নাই ঠিক। তবুও কি বলতে পারবেন একটি পদ্ধতি যেটা কাজে দিয়েছে ১০০% বা যার কোন সাইড এফেক্ট নেই?
সবসময় মনে রাখবেন ফর্সা হওয়ার প্রথম কথা হলো আপনার জন্মগত কিছু জেনেটিকাল বৈশিষ্ট আছে যেটা আপনি কোনভাবেই ওভারকাম করতে পারবেন না, হয়ত কসমেটিক্স সার্জারি করে কিছু কম বেশি করা যাবে, তাও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আপনাকে প্রথমে ফর্সা হওয়ার সংজ্ঞা জানতে হবে।* প্রথমত কোন মানুষের কানের পেছনের দিকের যেই ত্বক, যেটা সবসময় ঢেকে থাকে সেই অংশের ত্বকের রঙ এর চেয়ে ফর্সা সে কখনো হতে পারবে না। কারণ ত্বকের এই একটি এরিয়া কখনো রোদে উন্মুক্ত হয় না, তাই রঙ পুড়েও না। মুখ রোদে পোড়ার কারণে যেই ক্ষতিটুকু হয় সেটা কিছুটা উদ্ধার করা সম্ভব , মানে আপনি আপনার জেনেটিকাল বৈশিষ্ট অনুযায়ী যতটুকু ফর্সা হওয়ার কথা ছিলো তার কাছাকাছি হতে পারবেন, তারচেয়ে বেশি না।
* দ্বিতীয়ত ফর্সা হওয়া মানে আমার কাছে মনে হয় স্কিন টা আরো স্বাস্থ্যবান এবং উজ্জ্বল হওয়া।
এতদিন আপনি যেই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করছেন সেগুলো কি আদৌ কাজে দিচ্ছে? কাজে না দিলে কেন দিচ্ছে না? আসুন জেনে নেই পর্দার আড়ালে লুকনো সেই শর্তপ্রযোজ্য গুলোঃ
১) মনে রাখুন কোন রঙ ফর্সাকারি ক্রিম নিরাপদ না। জানি আমার এ কথার সাথে অনেকে হয়তোবা একমত হবে না কিন্তু অসহ্য হলেও এ কথা সত্য যে, রঙ ফর্সা করা ক্রিমের কাজ না, ক্রিমের কাজ ত্বকের ময়েশ্চার লেভেল ঠিক রাখা, বা কিছু কেমিক্যাল এপিডার্মাস লেয়ারে কাজ করে ত্বকের দাগ অস্পষ্ট করতে সাহায্য করে। রঙ ফর্সাকারি ক্রিমে যেই ব্লিচিং কেমিক্যাল থাকে সেটা স্কিন ক্যান্সারের সৃষ্টিতে সরাসরি ভূমিকা পালন করে।
২) মুখের ত্বক আর হাত পায়ের ত্বক এক না, তাই ধরুন কোন প্যাকের কথা বলা আছে যেটা হয়ত হাতের জন্য , সেটা মুখের জন্য ব্যবহার করবেন না। কারণ একই উপাদানের প্যাক হলেও উপাদানের অনুপাত প্যাকের কার্যকরিতার উপর প্রভাব ফেলে।
৩) ধরুন আপনি ঠিক পদ্ধতিতেই উপটান/ ফেইস মাস্ক লাগাচ্ছেন কিন্তু তবুও ত্বকের উন্নতি হচ্ছে না, প্রথম কথা মনে রাখুন শুধুমাত্র ত্বকের লেয়ারে কিছু উপাদান সাপ্লাই দিলেই ত্বকের উজ্জলতা চলে আসবে না, এইজন্য আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকতেই হবে।
৪) আপনি যেই ফেইস প্যাকই ব্যবহার করুন, বা যেভাবেই ফর্সা হওয়ার চেষ্টা করুন, রাতে প্যাক লাগালেন আর সকালে উঠে রোদে বের হয়ে গেলেন, তাহলে কিন্তু লাভ নেই, কিছু ঔজ্জ্বল্য আসলেও সারাদিনে রোদে পুড়ে আবার আগের জায়গায় ফেরত যাবেন। তাই এই পদ্ধতি চালানোর সময় ছাতা ব্যবহার করুন রোদে, আর যদি এমন কোন প্যাক লাগান যেটায় হলুদ আছে সেই প্যাক লাগানোর পর কোনভাবেই রোদে ত্বক উন্মুক্ত করবেন না। হলুদ দেওয়া ত্বক কিন্তু মুহুর্তের মধ্যে ট্যান হয়ে যায় সূর্য পেলে।
৫) হাজার রকম প্যাক/উপটানের কথা বলা থাকে বিভিন্ন জায়গায় – চন্দন, শংখ, হলুদ, দুধ, দই, মধু, এগুলো হল বেসিক উপাদান। লক্ষ করুন, সব একসাথে লাগালে কিন্তু লাভ নাই, বরং একটা একটা করে চেষ্টা করুন কোনটা আপনাকে স্যুট করে। সব একসাথে ব্যবহার করলে কিন্তু রি-একশন-ও হতে পারে।
৬) যেই প্যাকই লাগান না কেন এটা নিশ্চিত করুন সেই মাস্ক/প্যাক/উপটান শুকানোর পর সেটা ত্বক থেকে ভাল ভাবে পরিস্কার করা হয়েছে, ত্বকে যদি প্যাকের রেসিডিউ থেকে যায় সেটা ত্বকের জন্য দিগুণ নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে।
আর সব কথার শেষ কথা হলো ত্বক ফর্সা করতে আকাশ পাতাল এক করে ফেলে এতো কষ্ট না করে, নিয়মিত ত্বক পরিস্কার রাখুন।
No comments:
Post a Comment